সকাল ৯:২১ বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯


চাহিদা পুরণে ব্যর্থ ওয়াসা

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : আগস্ট ২৯, ২০১৯ , ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : জনদুর্ভোগ,রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের আশা ছিলো সুপেয় পানি পান করার। সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষে সিটি করপোরেশন থেকে পৃথক হয়ে ওয়াসার কার্যক্রম শুরু হবে। ওয়াসা নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। কিন্তু সেই আশা পুরণে ব্যর্থ হয়েছে রাজশাহী ওয়াসা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওয়াসার কার্যক্রমে সন্তুুষ্ট না নগরবাসী।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ওয়াসার সরবরাহ করা পানি মানসম্মত নয়। কোন কোন সময় এতো নোংরা পানি সরবরাহ করা হয় যা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে। খাওয়া তো দূরে থাক হাতে নিতেও রুচিতে বাধে। হলুদ বা কালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত এই ময়লা পানি নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগের শেষ নেই।

মহিষবাথান এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক শামীম আরা জানান, ওয়াসার পানি ব্যবহারের একেবারে অনুপোযী। এই পানি পান করা দূরে থাক ব্যবহার করা যায় না। এই কোন কোন সময় কালো শেওলা পাওয়া যায় পানির মধ্যে। বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয় না।

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহন কর্মকার বলেন, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি পান করার মতো না। ময়লা ছাড়াও পানিতে প্রচুর আয়রণ রয়েছে। ওয়াসার পানি সংরক্ষণ করলে লাল রং ধারণ করে।

নগরীর রাণীনগর এলাকার গৃহবধূ সাঈদা রায়হানা বলেন, এই পানি কেবল রান্নাবান্না ও ধোয়া-মোছার কাজে লাগে। ওয়াসার পানিতে গোসল করাও যায় না। এক টানা ১০ দিন গোসল করলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ নিরুপায় হয়েই এই পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি সরবরাহ লাইনের ত্রুটির কারণে কোন কোন এলাকায় ঘোলা বা গন্ধযুক্ত পানি পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। খোঁজ নিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। এটা ড্রেনের ময়লা।

তবে ওয়াসার একটি সূত্র বলছে, পানির সরবরাহ পাইপ স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই পাইপগুলি পরিস্কার না করায় এবং স্থানে স্থানে লিকেজের কারণে এই ধরনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
শোধন ছাড়াই নগরবাসীকে কথিত সুপেয় পানি সরবরাহ করছে রাজশাহী ওয়াসা। তথ্যমতে এই পানির ৯৬ শতাংশ জোগান আসছে ভূগর্ভ থেকে। রাজশাহী ওয়াসার একটি সূত্রে জানা গেছে নগরীতে ৫টি পানি শোধনাগার রয়েছে। পদ্মার পানি নির্ভর শ্যামপুরে একমাত্র ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগারটি সচল থাকে বছরে ৪ মাসের মত। বাকি চারটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার চালুর কিছুদিন পর থেকেই বিকল। এই অবস্থায় ৯৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে সরাসরি ভূ-গর্ভস্থ পানি গ্রাহককে সরবরাহ করছে ওয়াসা।

সূত্র আরও জানায়, ৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৩০ জন অধিবাসীর এই শহরে ওয়াসার পানি সরবরাহের আওতায় এসেছে ৪ লাখ ৪ হাজার ২১০ জন। শতকরা হিসাবে পানি ভোগীর আওতায় ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। ওয়াসার গ্রাহক ৪২ হাজার ৬৮০। সবমিলে প্রতিদিন পানির চাহিদা ১১ দশমিক ৩৩ কোটি লিটার। কিন্তু উৎপাদিত হচ্ছে ৭ দশমিক ৭৮ কোটি লিটার। এর ৯৬ শতাংশই আসছে ভূগর্ভ থেকে। জনপ্রতি দৈনিক ১৯০ দশমিক ৭৪ লিটার পানি উৎপাদন হলেও ব্যবহার হচ্ছে ১২৬ দশমিক ৩০ লিটার। নগরজুড়ে ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন রয়েছে ৭১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। দৈনিক ৫ দশমিক ১০ কোটি লিটার পানি বিক্রি করছে ওয়াসা। সংস্থাটি দিনে ১২ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছেন সংশিস্নষ্টরা।

সম্প্রতি রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় রাজশাহীতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি শোধন করে রাজশাহী নগরী ও এর আশেপাশের পৌর এলাকায় সরবরাহ হবে।

তথ্য অনুযায়ী এই শোধনাগারে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার পানি শোধন হবে। পরিশোধিত পানি সরবরাহে গড়ে তোলা হবে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে প্রধান সরবরাহ লাইন থাকবে ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এছাড়া ৪৮ কিলোমিটার প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সরবরাহ লাইনও থাকবে। ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ হবে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে। এরই মধ্যে ৫৩ দশমিক ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

এসবি/এমই