ভোর ৫:৩৩ রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯


ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র কারণে নৌ চলাচল বন্ধ

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 10, 2018 , 8:39 pm
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র কারণে আবহাওয়া বিরূপ থাকায় সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় নৌ চলাচল বন্ধ রাখতে আবহাওয়া অফিস থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নৌযানগুলোকে সাবধানে নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ফেরি যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের দু’পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীরা পড়েছেন মহাবিড়ম্বনায়। যাত্রীবাহী নৌ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই নদীবন্দরগুলোতে গিয়ে ফিরে যান। তবে ঢাকা থেকে স্বল্প দূরত্বের কিছু নৌযান চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে সদরঘাট নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। তবে এর প্রভাবে বুধবার বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ছিল ঝড়ো বাতাস। উপকূলীয় এলাকায় সারাদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর কর্তৃপক্ষর (বিআইডব্লিউটিএ) জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

খুলনা ব্যুরো জানায়, ঘূর্ণিঝড় তিতলি মোকাবেলায় খুলনার উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতকর্তা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলার অংশ হিসেবে খুলনায় একটি এবং ৯টি উপজেলায় ৯টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়া জেলার ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দফতরগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আমিরুল আজাদ বুধবার বেলা ৩টার দিকে জানান, ঘূর্ণিঝড়টি এখন মংলা বন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এটি উড়িষ্যা ও অন্ধ্র উপকূল দিয়ে অতিক্রম করার সময় কিছুটা বাঁকা হয়ে স্থলভাগে আসতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় খুলনায়ও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত বন্দরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন জানান, বুধবার সকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কয়রা ও দাকোপ উপজেলায়। সেখানে স্থানীয়দেরকে সার্বক্ষণিক রেডিওর খবর শুনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেলার ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য জেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (০৪১-৭২০৩৬৯) যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় মেডিকেল টিমের সদস্যরা প্রস্তুত আছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সেচ্ছাসেবকরা সর্তক আছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এদিকে ঘূর্ণিঝড় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের মাইকিং করে সরিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন। পাহাড় সংলগ্ন স্কুলে খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস সহকারী শ্রীকান্ত কুমার বসাক সমকালকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি এখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা হওয়া অথবা ঝড়ো হওয়া আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ মেঘলাসহ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

নৌবাণিজ্য অধিদফতরের প্রধান কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অধিদফতরের বুলেটিনের ওপর নির্ভর করে মাছ ধরার নৌযানসহ সব ধরনের ছোট নৌযানগুলো সাগরে চলাচল না করতে বলা হয়েছে। তবে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেশিরভাগ নৌযান উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ের পাদদেশে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। নগরীর মতিঝর্ণা, মিয়ার পাহাড়সহ বিভিন্ন ঝূকিঁপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সর্তক করে মাইকিংও করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে সরে যেতে প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। এর পরেও যারা নিরাপদ স্থানে না গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আছেন তাদের সরিয়ে নিতে অভিযান চলছে। পাহাড় সংলগ্ন স্কুলের পাশে খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বুধবার দুপুর থেকে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা শাখার উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, কেন্দ্রীয় দফতরের নির্দেশে তিনি গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেন। কেন্দ্র থেকে পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

এসবি/এসএস