সন্ধ্যা ৭:৫২ রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯


ঘুষের কারবারে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : ডিসেম্বর ২, ২০১৯ , ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘুষ নেয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েছেন রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের তিন কর্মচারী। পরে দুদক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বোর্ডের আরও তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বীকার করেছেন যে, এই ঘুষের টাকার ভাগ তারাও পান।

এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন- বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন ও আহসান আলী; পত্রপ্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম ও মুরাদ আলী; স্ক্রীপ্ট শাখার দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী রুবেল খান ও মাধ্যমিক সনদ শাখার আসলাম হোসেন ওরফে চৌধুরী।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বোর্ডে শিক্ষার্থীদের সনদপত্র উত্তোলন, নাম সংশোধন, ফলাফল সংশোধন, ভর্তি বাতিল এবং এক কলেজে ভর্তি বাতিল করে আরেক কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত টাকা আদায়ে একজন ভুক্তভোগী দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন। বিদ্যালয় মঞ্জুরী নবায়ন, বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা, মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি, অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও মহাবিদ্যালয়ের ছাড়পত্র ছাড়াও আরও বিভিন্ন কাজে ঘুষ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল সোমবার সকাল ১০টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ডে অভিযান চালায়। দলটি প্রথমে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় তারা দেখতে পায়, সেবা প্রত্যাশীদের নাম সংশোধন, সনদপত্র উত্তোলন ও সনদপত্র ইংরেজী ভার্সনে রূপান্তরের জন্য বোর্ডের কর্মচারীরা ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিরক্ত আদায় করছেন। কাউন্টারের মাধ্যমে আবেদনপত্র নেয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ আবেদন ফরম কর্মচারীরা সরাসরি নিয়ে যাচ্ছেন। তারাই কর্মকর্তাদের ঘুষের ভাগ দিয়ে কাজ করে দিচ্ছেন। অথচ সেবা প্রত্যাশীরা মুঠোফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে ডেলিভারী কাউন্টার থেকে এসব সেবা পাওয়ার কথা। ঘুষের এমন কারবার সব শাখাতেই ধরা পড়ে।

এরপর দুদক কর্মকর্তারা প্রথমে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আসলাম হোসেন এবং অফিস সহকারী মুরাদ আলী ও রুবেল খানকে ঘুষের টাকাসহ আটক করে সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়ে যান। এ সময় তারা ঘুষ আদায়ের কথা স্বীকার করেন। দুদক কর্মকর্তারা তখন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন ও আহসান আলী এবং অফিস সহকারী শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জেরার মুখে তারাও এই ঘুষের টাকার ভাগ পাবার কথা স্বীকার করেন।
দুদক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। এ সময় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ডের সচিব তাৎক্ষণিকভাবে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছেন।

সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এসব বিষয়ে মঙ্গলবার বোর্ডে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুদক দল বোর্ডে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র ঝোলানো, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে জায়গায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছে। সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে রাতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের সরকারি মুঠোফোনে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত নম্বরটি খোলা থাকলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই এ বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসবি/আরআর/এআইআর