রাত ১:০১ বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯


ক্ষমতা ছাড়া তারা অস্তিত্বহীন, সেটা প্রমাণিত: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : March 27, 2019 , 9:46 pm
ক্যাটাগরি : জাতীয়,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট গিলে যে দল সৃষ্টি হয়, তাদের গোড়ায় কোনো মাটি থাকে না। ওই স্বর্ণলতার মতো গাছের ডালে বসে গাছের রস খেয়ে বাঁচে। গাছ মরে গেলে তারাও থাকে না। কাজেই তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। ক্ষমতা ছাড়া অস্তিত্বই থাকে না। সেটাই আজকে বাংলাদেশে প্রমাণিত সত্য।’

বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে যতই চিৎকার করুক গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র নাই। ওই ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল কখনোই গণতন্ত্র দিতে পারে না, দেশের মানুষের কল্যাণও করতে পারে না। তাই যদি করতে পারত, এই ২১ বছর যে তারা ক্ষমতায় ছিল, তখন কিন্তু বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করতে পারত। তা তো হয় নাই, করে নাই। বরং বাংলাদেশের মানুষকে ভিক্ষুক বানিয়ে রেখেছিল। তারা তো বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনবে কেন?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন প্রথমবার ক্ষমতায় এসে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি তখন তাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেছিল, স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো নয়। এতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। আসলে তারা জাতিকে ভিক্ষুক বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন অনুযায়ী জাতিকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর তারা ক্ষমতায় ছিল। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হতো। যাদের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল সেই সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তা কী করেছে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর দিকে তাদের নজর ছিল না। নজর ছিল নিজেদের উন্নতি দিকে আর একটি এলিট গ্রুপ সৃষ্টি করার দিকে। তারা একটি চাটুকারের দল সৃষ্টি করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের স্বাদ পায়। এজন্য তিনি আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের শেখড় দেশের জনগণের সঙ্গে, তাই শত চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যাবে না বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্যটা হলো স্বাধীনতার পর যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল অনেকের কাছে তা ভালো লাগেনি। কিন্তু সেই চাটুকারেরা পরে মিলিটারি ডিকটেরদের বাহবা দিয়েছে। মার্শাল ল দিয়ে যারা দেশ চালায় যতই রাজনৈতিক দল করার অনুমতি দিক না কেন তাদের শাসনে গণতন্ত্রের ধারা কীভাবে থাকে সেটাই আমার প্রশ্ন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সত্য একদিন না একদিন উদ্ভাসিত হয় সেটা প্রমাণিত হয়েছে। যদিও এর জন্য সময় লেগেছে। একটা জেনারেশন ভুল ইতিহাস জেনেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ মহাকাশ থেকে সমুদ্রের তলদেশে পর্যন্ত আমাদের বিচরণ। আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা এটা করতে পারেনি বা করতে চায়নি। তারা ভোগ বিলাসে গা ভাসিয়েছে। পরাজিত শক্তির পদলেহন করেছে। জাতি মর্যাদা নিয়ে চলুক সেটা তারা চায়নি।’

আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, জাতির পিতা একটি উন্নতি জাতি গঠনে সবকিছুই করেছিলেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে তার পূর্ণতা দিতে পারেননি। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাতির পিতার দেখানো পথ ধরে চলছে। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনই তার সরকারের প্রধান কাজ।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের নেতা আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করির সেলিম প্রমুখ।

এসবি/এআইআর