বিকাল ৪:০০ সোমবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯


কৃত্রিম সংকট রোধে টিসিবিকে কাজে লাগাতে হবে: বাদশা

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট রোধ করতে হলে সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) আরও সক্রিয় করে কাজে লাগাতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং লবণেরও দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, হঠাৎ হঠাৎ করেই পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে। এখন বাজারে পর্যাপ্ত লবণ আছে। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যে লবণেরও দাম বাড়বে। এই গুজবটা যারা ছড়াচ্ছে তারা যে শুধু ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ছড়াচ্ছে সেটা নাও হতে পারে। এর পেছনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার গভীর চক্রান্ত থাকতে পারে। সেটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন নায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারেন তার জন্য টিসিবি রয়েছে। কিন্তু টিসিবিতে চিনি, ডাল, তেল, ছোলাসহ হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য পাওয়া যায়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসব পণ্য কিনতেও মানুষ টিসিবির ট্রাকের সামনে লাইনে দাঁড়ান। তাই টিসিবির ট্রাকে আরও নানা ধরনের পণ্য রাখা প্রয়োজন। প্রতিটি জেলায় জেলায় যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য নিয়ে টিসিবির গাড়ি থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, টিসিবিতে যখন নায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া যাবে তখন বাজারে যতই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হোক না কেন এতে লাভ হবে না। তাই হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য নয়, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় আরও নানা ধরনের পণ্য দিয়ে টিসিবিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে টিসিবি যেন সারাবছর এসব পণ্য বিক্রি করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

বাদশা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। সুযোগ পেলেই তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেইসঙ্গে পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারেরও বদনাম হয়। তাই এখন রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্র চাইলেই টিসিবিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাহলে সাধারণ মানুষ নায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবে।
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহেই পেঁয়াজের দাম আড়াইশো টাকা অতিক্রম করে দামের সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর প্রশাসনের অভিযানে রাজশাহী মহানগরীর এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেই মিলেছে ৩০০ বস্তা পেঁয়াজ।

পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হওয়ার আগেই মঙ্গলবার দুপুর থেকে লবণ নিয়ে শুরু হয়েছে লঙ্কাকাণ্ড। পেঁয়াজের মতো লবণেরও দাম বাড়বে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে লবণের চাহিদা। আর এই সুযোগে লবণের দামও বাড়তে শুরু করেছে। প্রশাসন বলছে, দেশে এখন লবণের কোনো সংকট নেই। এটা অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি।

এসবি/আরআর/জেআর