রাত ৯:৪০ মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০


কমরেড অমল সেন স্মরণ মেলা শুরু

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২০ , ১০:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : Uncategorized
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ীতে দু’দিনব্যাপী অমল সেন স্মরণ মেলা শুরু হয়েছে। স্মরণমেলায় কমরেড অমল সেনের জীবনাদর্শ বিষয়ে আলোচনা, গণসঙ্গীত, নাটক, জীবনসংগ্রাম ভিত্তিক চলচিত্র প্রদশর্নী এবং গ্রামীণমেলা থাকছে।

এদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে আজ শুক্রবার দুপুরে অমল সেনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এছাড়া শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি কমরেড শেখ হাফিজুর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয়, স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা।

পরে বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়ার বাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, কমরেড অমল সেন ছিলেন কমিউনিস্ট ঐক্যের প্রতীক। তিনি সারা জীবন জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। সেই সংগ্রাম থেকে পার্টি এক চুল পরিমাণ বিচ্যুত হবে না। পার্টির মূল পতাকা আমরাই আঁকড়ে আছি, অন্যরা ফেসবুক নেতা। সকলকে দীপ্ত শপথ নিতে হবে বিভাজনের বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, চক্রান্তের বিরুদ্ধে। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র ও বিভাজনের মোকাবেলা করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি সব সময় মেহনতি মানুষের জন্য লড়াই করেছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ গড়তে কাজ করেছে। পার্টির প্রতিটি নেতাকর্মীকে আগামীতেও মেহনতি মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এ সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনকে এখনই সতর্ক হতে হবে। তা না হলে এর বড় মূল্য দিতে হবে।

অমল সেন ১৯ জুলাই ১৯১৩ সালে বৃটিশ ভারতের তৎকালীন যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার আফরা গ্রামের এক সামন্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকাকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হয়ে তিনি ‘অনুশীলন’ সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৯৩৩ সালে খুলনার বিএল কলেজে রসায়নশাস্ত্রে পড়া অবস্থায় অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩৩ সালে এই অঞ্চলের জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তার বাবা-কাকাদের জমিদারির বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এলাকার গরিব কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন তিনি। ১৯৪৬ সালের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘বাসুদা।’ অমল সেন ১৯৪৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক নিযুক্ত হন। সে সময় তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। দুই বছর জেলের বাইরে থেকে আবার ১৯৫৮ সালে গ্রেফতার হন এবং ১৯৬৯ পর্যন্ত বন্দি থাকেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তি লাভ করলেও আবারও তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে কমিউনিস্ট নেতা আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে জনগণ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে অমল সেনসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদদের মুক্ত করে।

অকৃতদার, নিঃস্বার্থ বিপ্লবী কমরেড অমল সেন মুক্তিযুদ্ধকালে জেলমুক্ত হয়ে ভারতে চলে যান এবং তখন ‘বিভ্রান্ত বাম কর্মীদের’ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করতে ‘খোলা চিঠি’ লিখে আহ্বান জানান। গড়ে তোলেন ‘বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি’। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে চীন-মস্কো পন্থার বিপরীতে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড অমল সেনের হাতে গড়া লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি পরে নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি নাম ধারণ করে। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজীবন সংগ্রামী কমরেড অমল সেন ২০০৩ সালে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক জীবনে কমরেড অমল সেন বাম-ডান বিচ্যুতির বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট কর্মীদের সমাজ বিপ্লবের দিশা দেখিয়েছেন তার ‘জনগণের বিকল্প শক্তি’ নামের চিন্তাসূত্র দিয়ে। কমিউনিস্ট পার্টি এবং জীবনবোধের অনুশীলনে ‘কমিউনিস্ট জীবন ও আচরণ রীতি প্রসঙ্গে’ বইটি এদেশের কমিউনিস্টদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

এসবি/আরআর/এআইআর