বিকাল ৫:১৭ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


এগিয়ে আসছে শীত

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : October 15, 2019 , 10:52 am
ক্যাটাগরি : পরিবেশ,রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

শিরিন সুলতানা কেয়া : বৃষ্টিপাত শেষ হতে না হতেই শীতের আমেজ শুরু হয়েছে রাজশাহীতে। দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে এখানকার আবহাওয়া। রাতে হালকা শীত অনুভূব করছেন পদ্মাপাড়ের এই শহরের বাসিন্দারা। ভোরে কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে। সবুজ ঘাস ও গাছের পাতায় জমছে শিশিরকণা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এগিয়ে আসছে শীত।

অথচ হেমন্ত কালই কাটেনি এখনও। শেষপর্যায়ে রয়েছে শরৎকাল। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শরতের পর দুমাস থাকবে হেমন্ত। তারপরই আসবে শীত। বাংলা পৌষ এবং মাঘকে ধরা হয় শীতকাল। তার আগের কার্তিক-অগ্রহায়ণ হেমন্ত। আশ্বিনের শেষ সময়ে এখন চলছে শরতেরও শেষভাগ। তবে এই শরতেও গেল প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শীতের আমেজ দেখা যাচ্ছে।

ভোরে সাদা মেঘের মতো কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে হারিয়ে গেছে শরৎ। সকাল-সন্ধ্যা হিমেল হাওয়ার সঙ্গে এখন প্রকৃতিতে দেখা দিয়েছে শুষ্কভাব। গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার এ পরিবর্তন দেখছেন এলাকার মানুষ। তবে ভরদুপুরের চিত্রটা একটু ভিন্ন। দুপুরে পড়ছে কড়া রোদ। আবার শেষ রাতে শীত অনুভূত হওয়ায় রীতিমতো কম্বল গায়ে জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে প্রকৃতিতে শীত শীত ভাব দেখা দেয়ায় নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিক্রি শুরু হয়েছে শীতের ভাপাপিঠা। নগরীর বিনোদপুর মোড়ে এক সপ্তাহ ধরেই ভ্যানের ওপর চুলো বসিয়ে ভাপাপিঠা বিক্রি করছেন শাহজাহান আলী (৫০)। প্রতি পিস ১০ টাকা। শাহজাহান বলেন, গত এক যুগ ধরে প্রতি শীতে তিনি ভাপাপিঠা বিক্রি করেন। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি ভাপাপিঠা বিক্রি করছেন।

সাহেববাজার ফুটওভার ব্রিজের পাশে ভাপাপিঠা বিক্রি করছেন মিজানুর রহমান (৪০)। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম। গ্রীষ্ণে সেখানে অটোরিকশা চালান। কিন্তু গত চার বছর ধরেই প্রতি শীতে আসেন রাজশাহী। এখানে ভাপাপিঠা বিক্রি করেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি আবার এই কাজ শুরু করেছেন।

মিজানুর জানান, এবার নগরীর শিরোইল এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছেন। বাসায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ময়দা প্রস্তুতের কাজ করেন। আর ভোর থেকে সকাল ১০টা এবং বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাপাপিঠা বিক্রি করেন। এলাকায় অটোরিকশা চালানোর চেয়ে শীতে এই ব্যবসায় লাভ বেশি বলেই তিনি কুড়িগ্রাম থেকে প্রতিবছর রাজশাহী আসছেন বলে জানান মিজানুর।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর অনেক দেরি করে অসময়ে বৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাজশাহীতে সর্বশেষ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তারপর থেকেই প্রকৃতিতে শীতের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সোমবার ভোরে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া গেছে ২১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দুপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পাওয়া গেছে ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে আগের কয়েকবছরের হিসাব করলে তাপমাত্রা এই সময় আরও দুই-এক ডিগ্রি কম থাকার কথা ছিলো বলে জানিয়েছেন রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকৃতিতে এখন শীতের আগমনী বার্তা। আগের বছর এই সময় তাপমাত্রা ১৯ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিলো। এবার সামান্য বেশি আছে। তবে তাপমাত্রা এখন কমতেই থাকবে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে তাপমাত্রা খুব কমে যাবে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে থাকবে হাড়কাঁপানো শীত।

 

এসবি/এমই