বিকাল ৫:৫৬ বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯


এক সপ্তাহেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি ছাত্রলীগ

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : নভেম্বর ৯, ২০১৯ , ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি,রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে পুকুরের পানিতে নিক্ষেপ করার ঘটনাটি তদন্ত করছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করে তিন দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটি সাত দিনেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি।

গত ২ নভেম্বর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে নিয়মের বাইরে গিয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ না দেয়ার কারণে এই কাণ্ড ঘটানো হয়।

ঘটনার দিন রাতেই রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সভা করে সৌরভকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ পাঠায় কেন্দ্রে। আর সেদিনই নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ কুমার জয়ের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সাত দিন পার হলেও তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি। শনিবার বিকাল পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ কুমার জয় বলেন, আরও ব্যাপকভাবে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তাই তদন্ত শেষ হয়নি। প্রতিবেদন জমার বিলম্বের কারণ সভাপতিকে মৌখিকভাবে জানিয়ে রাখা হয়েছে। তবে দুই’এক দিনের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ হবে।

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে পাইনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে আমাদের সুপারিশের ভিত্তিতে কামাল হোসেন সৌরভকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার দিনই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিল বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার বিকালে কমিটির প্রধান কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এর আগে কমিটির সদস্যরা সরেজমিন তদন্ত করেন। তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একটি টর্চার সেলেরও সন্ধান পান। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করে দেন পুলিশের হাতে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে এবং কী কী সুপারিশ করা হয়েছে তা জানাতে চাননি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছনার ঘটনায় সেদিন রাতেই অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। এ পর্যন্ত পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এজাহারভুক্ত মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসবি/আরআর/জেআর