ভোর ৫:০০ শনিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৯


উ. কোরিয়ার নির্দেশেই কিম জং নাম হত্যা: যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : March 7, 2018 , 10:38 pm
ক্যাটাগরি : বিদেশ
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : অত্যন্ত কড়া রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং নামকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে উত্তর কোরীয় সরকারের নির্দেশেই। হত্যার এক বছরেরও বেশি সময় পর এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে আবার দোষারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি। আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে কিম জং নাম মারা যান। রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দুজন নারী এয়ারপোর্টে ইনজেকশনের মাধ্যমে ভিএক্স (নার্ভ এজেন্ট) শরীরে প্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করেছেন। হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার হওযা দুই নারী অবশ্য বলেছেন, তাঁরা টিভিতে একটি হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট বলেছেন, বৈশ্বিক নিয়ম ভেঙে এভাবে প্রকাশ্যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তার বেপরোয়া আচরণের আরও প্রকাশ ঘটিয়েছে। আর কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়ার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সহ্য করা যায় না।

কিম জং নাম হত্যার ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দোষারোপ করে আসছে। যদিও উত্তর কোরিয়া এ হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উত্তর কোরিয়া থেকে ফিরে আসার এক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এল। দুই কোরিয়ার মধ্যে অনেক দিন ধরেই শীতল সম্পর্ক চলছে। তাই এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনোযোগ পায় বিশ্বব্যাপী। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের সময় দুই পক্ষকেই অত্যন্ত আন্তরিক ও হাসিখুশি দেখা যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত শীতকালীন অলিম্পিকে নানান জল্পনাকল্পনা শেষে উত্তর কোরিয়া অংশ নেয়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশ সম্পর্ক উষ্ণ করার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মাসে কিম জং-উনের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় পর দুই দেশের শীর্ষ দুই নেতার বৈঠক হতে যাচ্ছে। কিম জং-উন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটা হবে তাঁর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রথম বৈঠক।

হত্যার শিকার কিম জং নাম তাঁর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তাঁকে পাশ কাটিয়ে নেতা করা হয় ছোট ভাই কিম জং-উনকে। কিম জং নাম তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় বিদেশে কাটিয়েছেন। বংশপরম্পরায় তাঁর পরিবারের উত্তর কোরিয়া শাসন করার বিষয়টির ঘোর বিরোধিত করতেন তিনি। ২০১২ সালে প্রকাশিত এক বইয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁর সৎভাই কিম জং-উনের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুণাবলির অভাব রয়েছে।

এসবি/এসএস