রাত ১:৩৮ বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯


ঈদের আগেই হচ্ছে বেতন-বোনাস, বাদশাকে পাটকল শ্রমিকদের ধন্যবাদ

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : মে ২৭, ২০১৯ , ৯:০৮ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শীর্ষ খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ আন্দোলন ও ঈদকে সামনে রেখে অবশেষে বকেয়া বেতন-বোনাস পাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা। তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সোমবার ১৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বরাদ্দের এই অর্থ শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে দেয়া হবে।

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সারাদেশের মতো রাজশাহী পাটকলের শ্রমিকরাও আন্দোলন করে আসছিলেন। এ নিয়ে গত ১১ মে রাজশাহী পাটকলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। সেদিন শ্রমিকদের আন্দোলনকে যৌক্তিক অভিহিত করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির এই সাধারণ সম্পাদক তাদের বেতন-ভাতা আদায়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে শ্রমিকদের জানান।

এর পরদিনই তিনি পাটমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে মন্ত্রণালয়ে যান। পাটমন্ত্রী গোলাম দোস্তগীর গাজী সেদিন ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যাপারে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে প্রতিশ্রুতি দেন। এরপরই বেতন-ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অবশেষে বরাদ্দও মিললো।

এ বিষয়ে রাজশাহী পাটকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বেতন-ভাতার জন্য আমরা একা একাই আন্দোলন করে আসছিলাম। সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। আমাদের জন্য তিনি মন্ত্রণালয়েও যান। অবশেষে আমরা ঈদের আগে বেতন-ভাতা পাচ্ছি বলে শুনছি। তাই আমি সকল শ্রমিকের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। এছাড়া আমাদের আন্দোলন গণমাধ্যমে তুলে ধরে দাবি আদায়কে ত্বরাণি¦ত করাই সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই।

জিল্লুর রহমান আরও বলেন, সারাদেশের শ্রমিকরা সরকারের কাছে ৩৩৬ কোটি টাকা পাবে। তার মধ্যে ১৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে। এই টাকায় আমরা শ্রমিকরা ঈদ করতে পারব। আমরা আশা করি, বকেয়া বাকি টাকাও আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।

এদিকে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করার কথা রাখাই বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দোস্তগীর গাজীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়ায় আমি সরকার ও পাটমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধেও মন্ত্রী আন্তরিক থাকবেন বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এটাকে অপারেশন লোন বলে। এই টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দেয়া হবে। শ্রমিকদের প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে এই টাকা চলে যাবে। টাকা তোলার প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানা গেছে, আগামী ২০ বছরে ৫ শতাংশ সুদে প্রতি ছয় মাসের কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আর এ জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিজেএমসিকে একটি ঋণ চুক্তি করতে হবে। চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বরাদ্দ দেয়া অর্থ কেবলমাত্র শ্রমিকদের বকেয়াসহ মজুরি এবং উৎসব ভাতা হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিজেএমসির কাছে এতদিন শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা দিতে ভরসা পায়নি সরকার। তাই সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি শ্রমিকদের নিজস্ব একাউন্টে জমা দেয়া হবে বলে আগেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দিল সরকার।

এসবি/আরআর/এআইআর