রাত ৯:৫৩ মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯


আলোঘরে আলোকিত ২৪ হাজার শিশু

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : January 30, 2019 , 8:55 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহীর সংবাদ,শিক্ষা
পোস্টটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুবিধাবঞ্চিত ও সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আট বছর আগে ‘আলোঘর’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছিল বেসরকারি সংস্থা কারিতাস। রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি জেলার ২০টি উপজেলায় সাত বছর ধরে চলে এর শিক্ষা কার্যক্রম। আগামী মার্চে প্রকল্পটি শেষ হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ১৫৬টি শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার শিশু।

বুধবার রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথানে কারিতাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফাদার এফ চেঙ্কাতো হলরুমে আলোঘর প্রকল্পের সমাপনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই উঠে আসে এসব তথ্য। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এবং কারিতাফ ফ্রান্সের আর্থিক সহায়তায় ২০১১ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রকল্প সফল হয়েছে বলেই অভিমত দেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।

আলোঘর প্রকল্পে রাজশাহীর পবা, তানোর, গোদাগাড়ী, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলায় ৫৩; নাটোরের সদর, বড়াইগ্রাম ও সিংড়ায় ১৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, নাচোল ও গোমস্তাপুরে ১৫; নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও বদলগাছিতে ৫৬ এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় ১৭টি শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে।

প্রকল্প চলাকালে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় ২৩ হাজার ৭২১ জন শিশু। তারা অংশ নেয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি (পিইসি) পরীক্ষায়। গড় পাসের হার ৯৭ শতাংশ। এর মধ্যে ২০১৬ সালে প্রত্যেকটি শিক্ষাকেন্দ্রের শিশুরা পরীক্ষায় পাস করে শতভাগ পাশের চমক দেখায়। সেবার সবগুলো শিক্ষাকন্দ্র থেকে ৩৬৯ জন শিশু পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাশ করে। প্রকল্প শুরুর পর ২০১২ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১ জন। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রতি বছরই বেড়েছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০১৮ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০২ জনে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প চলাকালে মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা আদিবাসী শিশুদের মৌলিক শিক্ষার অধিকারকে বোধগম্য করেছে। এর মাধ্যমে ১৭ হাজার ৩১৮ জন আদিবাসী এবং ২৭৪ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু শিক্ষার মূলস্রোতধারায় যুক্ত হয়েছে। আদিবাসী শিশুদের জন্য সান্তাল ও উঁরাও ভাষায় বই প্রকাশ করে পাঠদান করা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে বই, খাতা, কলম ও খেলনা। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৮ জন এখন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে। ১ হাজার ২৬১ জন পড়াশোনা করছে মাধ্যমিক পর্যায়ে।

প্রকল্পের সমাপনি অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এসব শিক্ষাকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। তাই কমিউনিটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩৮টি শিক্ষাকেন্দ্রে অন্তত এ বছর পর্যন্ত চলমান রাখা হয়েছে। কারিতাস, স্থানীয় বাসিন্দা এবং চার্চের সহায়তায় অন্তত এ বছর পর্যন্ত চলবে আরও ৪৮টি শিক্ষাকেন্দ্র। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাকেন্দ্র সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ৬৮টি শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী স্কুলগুলোতে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রান্তিক এলাকার স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের আবার স্কুলমুখি করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশেষ করে শিশুদের একক শিখনকে প্রাধান্য না দিয়ে দলগত শিখনকে প্রাধান্য দেয়ায় এই প্রকল্পের সফলতা অনেক বেশি।

সমাপনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারিতাসের রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জেভার্স রোজারিও। অনুষ্ঠানে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার পল গমেজ, কারিতাসের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক শুক্লেশ জর্জ কস্তা, আলোঘর প্রকল্পের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক দীপক এক্কাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এসবি/আরআর/এআইআর