দুপুর ১:২৭ শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯


আট বছর বয়সী সিয়ামের দুই মাস ধরে ঘুম ভাঙছেই না!

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : June 22, 2019 , 11:29 pm
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ময়মনসিংহের নান্দাইলে আট বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া সিয়ামের ঘুম ভাঙছেই না। দুই মাস ধরে গভীর ঘুমে সে। কেন এমন হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছেন না বাবা মা। কখন প্রিয় সন্তানের ঘুম ভাঙবে অপেক্ষায় তারা।

সিয়াম ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেরাকোনা গ্রামের দরিদ্র সবজি বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। স্বজনরা জানান, চঞ্চল ছেলেটি গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড মাথাব্যথায় অস্থির হয়ে পড়ত সে। স্থানীয় চিকিৎসকদের ওষুধ সেবনে কিছুটা সুস্থ হলেও অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে আগের মতো অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পরে প্রচুর অর্থ খরচ করে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা করানো হলেও সেরে ওঠেনি সিয়াম। ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সিয়ামকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভর্তি করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষে দিন সাতেকপর শিশুটির মাথায় অপারেশন করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে উঠে সিয়াম। কিন্তু এক মাস পর আবার সিয়ামের মাথায় তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। পাশাপাশি সে পরিবারের লোকজনকে মারধর শুরু করে।

এ অবস্থায় ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করেন সিয়ামের বাবা গিয়াস উদ্দিন। ফের ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরে সহায়সম্বল যা ছিল তা বিক্রি করে ও ধারদেনায় চার লাখ টাকা সংগ্রহ করে ছেলেকে নিয়ে তিনি ঢাকায় যান।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, সিয়ামের মাথায় টিউমার রয়েছে। ফের তার অস্ত্রোপচার করাতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে সিয়ামের মাথায় দ্বিতীয়বারের অপারেশন করা হয়। পরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ২৪ দিন রাখা হলেও সিয়ামের চেতনা ফিরে আসেনি। ফলে বাড়তে থাকে অর্থসংকট। অর্থের অভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিয়ামকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে। সেখানে ১৫ দিন থাকার পরও চেতনা ফেরেনি তার।

পরে ব্যয় মেটাতে না পারায় কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার ত্যাগের পরামর্শ দেয়। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন বাবা গিয়াস। শ্বাস-প্রশ্বাস নিলেও এরপর দুই মাসেও চেতনা ফেরেনি সিয়ামের। অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে ছেলেটি।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের শিশুর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে চেতনা ফিরে আসে। আবার কোনো কারণে নাও ফিরতে পারে। শিশুটি এখন কোমায় রয়েছে।

এসবি/এআইআর