সন্ধ্যা ৬:২৪ বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯


অপরিকল্পিত নগরায়ন থেকে আমাদের সরে আসতে হবে: বাদশা

নিউজ ডেস্ক | সাহেব-বাজার২৪.কম
আপডেট : August 17, 2019 , 7:02 pm
ক্যাটাগরি : রাজশাহী,শীর্ষ খবর,সাহেব-বাজার বিশেষ
পোস্টটি শেয়ার করুন

টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে রাজনীতিক হিসেবে রয়েছে তার সুপরিচিতি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের প্রশ্নে ফজলে হোসেন বাদশা বরাবরই সোচ্চার। এবারের ঈদের ছুটিতে সাহেব-বাজারের মুখোমুখি হয়ে তিনি কথা বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু নিয়ে। ধারাবাহিকভাবে আমরা তার সেই একান্ত সাক্ষাৎকার প্রকাশ শুরু করছি। আজ পড়ুন তৃতীয় ও শেষ পর্ব।

সাহেব-বাজার : রাজশাহীর কৃষি উন্নয়ন বলতে আপনি বলছিলেন মাছ চাষের বিষয়টি। এখানে একটি প্রশ্ন উঠেছে যে, মাছের আবাদ চলছে সেটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষ তারা করছে। প্রকৃত যারা জেলে বা মৎস্য চাষী তারা নয় বরং অর্থশালীরা মাছ চাষের দিকে ঝুঁকেছে। তারা করছে কী, গ্রামাঞ্চলের বড়-বড় পুকুর বা বিশাল জমি যেখানে ধান চাষ হয় সেসব দখল করে তারা রাতারাতি বড়-বড় পুকুর বানাচ্ছে। যদি এই অবস্থা হয় তবে কৃষি ও উন্নয়নের বিষয়ের সাথে এটির কোন সাংঘর্ষিকতা হচ্ছে কিনা?

ফজলে হোসেন বাদশা : আমি মনে করি নিশ্চয়ই এ ধরনের কোন কাজ করা উচিত না এবং অন্যের ভূমি বা অন্যের জলা যে জলার উপর সমস্ত মাছচাষিদের অধিকার আছে সেটি দখল করে এককভাবে মাছ চাষ করার অধিকার কারো নেই। দেশে আইন আছে নিশ্চয়ই প্রশাসন এ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। আমি পৃথকভাবে বলতে চাই না তবে সামগ্রিকভাবেই বলতে চাই, উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে রক্ষা করার জন্য সজাগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

সাহেব-বাজার : রাজশাহীতে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি কথা এসেছে। আমরা যেটি দেখেছি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করা হয়েছে। তবে এখানে সরকার যেটি বলছে তাদের উৎপাদন পর্যাপ্ত তবে রাজশাহীতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের যে ঘটনা ঘটছে এ বিষয়ে আপনার কোন প্রতিকার আছে কী না?

ফজলে হোসেন বাদশা : এর প্রতিকার হচ্ছে ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকতে হবে। নেসকোর মতো কোন কোম্পানি করে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা কোন উন্নতি হয়েছে কিনা সেটা ভাবনার বিষয়। এখানে কি সমস্যা আছে সেটি তো নেসকো জনগণকে জানাতে পারে। বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকার পরও মাঝে মাঝেই বিদ্যুৎ থেকে যে বঞ্চিত হচ্ছি সেটি কীভাবে তারা নিরসন করবেন এটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব জনগণকে অবগত করা। আমি কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে দেখলাম, তারা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কিন্তু তারা কি গ্রহণ করছেন সেটি তারা জানাচ্ছেন না। এটি খুব রহস্যজনক। আমি মনে করি নেসকোর উচিত হবে মানুষকে জানানোর। আমাদের জানার অধিকার আছে। আমরা যে দেশকে নিয়ে গর্ববোধ করছি ক্রমাগতভাবে বিদ্যুতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করছি অথচ সেই বিদ্যুৎ যদি আমাদের ঘরে না পৌঁছায় তবে সেই স্বয়ংসম্পূর্ণতার কি অর্থ থাকে?

সাহেব-বাজার : নেসকোর কিন্তু আরেকটি অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকের মধ্যে তাদের একটি লুকোচুরি আছে। যে এক মাসে ২০০ টাকা বিল এবং পরের মাসে ২ হাজার টাকা বিল আসছে।

ফজলে হোসেন বাদশা : আমার মনে হয় অভিযোগগুলো নেসকোর বিবেচনার মধ্যে নেয়া দরকার। এবং নিশ্চয়ই নেসকো কর্তৃপক্ষকে আমি বলব, আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবাটি তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। বিদ্যুৎ বিতরণ এবং বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আপনাদের যে দায়িত্ব রয়েছে সেটি পালন করা।

সাহেব-বাজার : রাজশাহীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। আমাদের হাসপাতালে শুধুমাত্র রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ নয় উত্তরাঞ্চলসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সেবা নিতে আসেন। সেই হাসপাতালের সাথেই আপনি অনেকদিন ধরে জড়িত। হাসপাতালের উন্নয়নেও আপনি অনেক চেষ্টা করেছেন। আমরা যতটুকু বুঝতে পারি আপনি যা চেয়েছিলেন তা করতে পারেননি। অথবা সম্ভব হয়নি। সেবার মান বৃদ্ধি নিয়ে আপনার চেষ্টাটি অব্যাহত আছে কিনা?

ফজলে হোসেন বাদশা : আমি দায়িত্ব নেয়ার পর কিছু কাজ করেছি। প্রথমদিকে কিছু ইন্সট্রুমেন্ট ছিল না। সেগুলো আমি নিয়ে এসেছি। আমাদের বার্ন ইউনিট ছিল না, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট ছিল না, ডাইলোসিস হতো না, এখানে সিটিস্ক্যান মেশিন অকেজো ছিল, আমাদের ডিজিটাল এক্সরে ছিল না সেগুলো আমি নিজে করেছি। কিন্তু এগুলো করাটা আমার মধ্যে কোনো তৃপ্তি নেই। আমি মনে করি আমাদের হাসপাতালে আরও অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল। আমাদের একটি অত্যন্ত পুরনো ষাটের দশকের হাসপাতাল। ষাটের দশকে যে রোগী আসতো তার চেয়ে এখন দশগুণ বেশি রোগী আসে। এবং আজকে কিন্তু রাজশাহী জেলার আশেপাশের জেলাগুলোর লোকজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবাগ্রহণ করতে আসেন। কিন্তু আমাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন তো হল না। কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন এর প্রচেষ্টা ছিল কিন্তু আমরা বারবার দাবি করার পরও আজকে হাসপাতালের নতুন কোনো অবকাঠামো তৈরি করা হলো না।

অথচ আরো অনেক বেশি রোগীকে সেবা দেওয়ার জন্য যে উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল এটি আমরা সরকারের কাছ থেকে পাইনি। এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এক্ষেত্রে আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করেন, যে আপনি মৌলিকভাবে কি সফল হয়েছেন? আমি যদি প্রত্যেক মানুষকে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারি তবে কী করে আমি সেটা দাবি করবো। সরকারের কাছে আমি বারবার এ সমস্ত দাবি তুলেছি কিন্তু অনেক অগ্রগতি হওয়ার পরেও ব্যাপক মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সেটি আমরা করতে পারেনি। আজকে পৃথিবীতে হৃদরোগের চিকিৎসা অনেক সামান্য একটি চিকিৎসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতার যে কোন হসপিটালে বাইপাস সার্জারি হয়। কিন্তু আমাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাইপাস সার্জারি করার কোন ভালো উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়নি। এটি নিয়ে আমরা বারেবারে কথা বলেছি, কিন্তু এই কথা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভিতরই থেকে গেছে কিন্তু সেটির কোন বাস্তবায়ন হয়নি। আমি বাধ্য হয়েই হার্ট ফাউন্ডেশনকে পুনর্গঠন করেছি, এবং হার্ট ফাউন্ডেশনে যেন হৃদরোগের চিকিৎসা হয় সেই কাজ আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। আমি আশা করি এখানে হার্ট ফাউন্ডেশনের যে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এটি যদি সমাপ্ত হয় তাহলে আমরা ঢাকা হার্ট ফাউন্ডেশন এর মত রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে পারব।

সাহেব-বাজার : এ সময়ের খুবই আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে সেটি হল ডেঙ্গু। ডেঙ্গু নিয়ে যদিও রাজশাহীতে আমরা এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়ার খবর পাইনি কিন্তু হতেই বা কতক্ষণ। এ বিষয়ে আপনার কোন পরামর্শ বা আপনাদের যে প্রস্তুতি থাকার কথা সেটি আছে কিনা?

ফজলে হোসেন বাদশা : আমি আশা করব নিশ্চয়ই আমাদের সিটি কর্পোরেশন এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এবং রাজশাহী অনেক পরিচ্ছন্ন শহর। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে ড্রেনগুলোকে পরিষ্কার রাখা দরকার। প্রত্যেক মানুষকে সচেতন হতে হবে। কোন জায়গাতে যেন পানি বা ময়লা আবর্জনা আটকে না থাকে। ছোট ছোট জলাবদ্ধতায় কিন্তু ডেঙ্গু যে মশা ছড়ায় সে মশার জন্মস্থান। অর্থাৎ সেটা যাতে না হয় সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের ওপরে আমাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না সবাই মিলে যেন আমরা এই কাজ করতে পারি সেই ভাবনা থাকতে হবে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে শঙ্কা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়ন এর একটি কারণ। আমাদের এখন তাই অপরিকল্পিত নগরায়ন থেকে দূরে থাকতে হবে।

সাহেব-বাজার : এ সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গুজব। গুজব নিয়ে সারাদেশেই আলোচনা হচ্ছে সে সাথে বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে। আপনার সংসদীয় আসন যে নির্বাচনী এলাকা সেখানেও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন দিক থেকে কাজ চলছে জেলা প্রশাসন তারাও কাজ করছে। আপনি সংসদ সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে কোন বার্তা পৌঁছে দিতে চান কিনা?

ফজলে হোসেন বাদশা : আমি সাধারণ মানুষকে বলব গুজবে কান না দেয়ার জন্য। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব তো রয়েছেই। আমার মনে হয় যে আমাদের সকলের একটু সচেতনভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালনের দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। আমরা মনে করি যে আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা অনেক সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আমার মনে হয় সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতার পরিচয় দিতে পারছি না। এটা নিশ্চয়ই আমি নিজে দায়িত্ব না নিয়ে অন্যের ঘাড়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারি না। সবার ভূমিকা এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে রাজনৈতিক কোন শূন্যতা সৃষ্টি না হয়, এবং রাজনৈতিকভাবে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকা উচিত, গণপরিবহনে মৃত্যু হবে, প্রকাশ্যে কাউকে হত্যা করা হবে এরকম কোন পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাই না এবং একটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তারপরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ প্রদান করতে হচ্ছে যে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হোক এটি কোন কথা হতে পারে না। আমি খুবই কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তার আত্মবোধ এত সুন্দর যে তিনি চুপ করে থাকতে পারেননি। তিনি বলেছেন, হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হোক। কিন্তু একজন অন্যায় করবে সমাজে, একজন হত্যা করবে, একজন কালোবাজারি করবে, একজন মাদকদ্রব্য বা অস্ত্র পাচার করবে অথবা অস্ত্র ধারণ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে তাকে গ্রেফতার করার দায়িত্ব অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বাধীনভাবে অপরাধ দমন করতে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এখানে রাজনৈতিক কোন প্রভাব খাটানোর প্রয়োজন নেই। যে মাদক পাচার করবে তাকে অবশ্যই একজন মাদক ক্রিমিনাল হিসেবে চিহ্নিত করা দরকার। তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। অতএব সেই ভাবেই আমাদের দেখা দরকার।

সাহেব-বাজার : রাজশাহীতে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সেগুলো তো রয়েছেই, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সাহেব বাজারের মতো জায়গায় একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আপনার কোন উদ্যোগ আছে কিনা?

ফজলে হোসেন বাদশা : সাহেব বাজার এমন একটি জায়গা আজ থেকে আমি গত ৩০ বছর যাবত দেখছি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম এই সময়ে এটি কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি না পরিবর্তনের কোনো সম্ভব হয়নি। তবে আমি আশা করবো অবশ্যই সিটি কর্পোরেশন এ বিষয়ে মনোযোগী হবে। এবং যাতে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখবে।  সে বিষয়ে আমার মনে হয় সিটি কর্পোরেশন কেবল তারা নির্বাচিত হয়েছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র সাহেব তিনিও কিছুদিন আগে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তাদেরকে আমরা একটু সময় দিতে পারি। এ সময়ের বৃষ্টির যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে সিটি করপোরেশন কাজে লাগাবে এবং আগামী দিনে এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাতে আমাদের পড়তে না হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কারণ আমাদের রাজশাহীর যে সুনাম সেটি যেন এ ক্ষেত্রেও বজায় থাকে এ বিষয়ে নিশ্চয়ই তারা নজর দেবেন।

সাহেব-বাজার : আপনি রাজশাহী ২ আসনে টানা তিনবারের মত দায়িত্ব পালন করছেন।  এখনো অপ্রাপ্তি যেটি আপনার মনে যা আপনি গত দুইবার করতে পারেননি এইবারে করতে চান সেটি কি? এবং এই সময় আপনার মূল দাবিগুলো যেটি আপনি করতে চান, রাজশাহী মানুষকে দিতে চান সেগুলো কি কি আমরা একটু শুনতে চাই এবং পাঠকদের জানাতে চাই।

ফজলে হোসেন বাদশা : আমি একটি কথা বলব সেটি খোলা মনে বলবো। রাজনীতিতে তৃপ্তি ও অতৃপ্তি বলতে কিছু নেই। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের দায়িত্ববোধের ব্যাপার। আপনি যদি তৃপ্তি ও অতৃপ্তির কথা বলেন তবে একটু ভেবে দেখেন তো বঙ্গবন্ধুর কথা। আজকে বঙ্গবন্ধুর দিকে যদি আমরা তাকাই যে মানুষটি সারাজীবন লড়াই করেছেন এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। তাকে কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু তাই বলে আমি কখনো ভাবতে পারি না বঙ্গবন্ধু ব্যর্থ হয়েছেন। এ সমাজে তিনি একটি চেতনা রেখে গেছেন। এখন যদি তৃপ্তির কথা বলতে হয় বঙ্গবন্ধু যে চেতনা ধারণ করতেন এবং আমরা বাংলাদেশ স্বাধীনের জন্য যে ৩০ লক্ষ শহীদ রক্ত দিয়েছে সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকে আমরা যদি কাজ করে যেতে পারি সেটি হচ্ছে আমাদের মূল তৃপ্তির জায়গা। সেখানে আমার কি সাফল্য হলো, আমি কি পেলাম এবং আমি কি পেলাম না সেটি একজন রাজনীতিবিদের ভিতর অংক কষার বিষয় থাকে বলে আমি মনে করি না। আমি ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। তখন আমার বয়স যথেষ্ট কম। দীর্ঘকাল অতিক্রম করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। কারাগারে থেকেছি কত বার। সামরিক শাসনামলে আমাকে নির্যাতিত হয়ে হয়েছে অনেকবার। কিন্তু আমার কোন অতৃপ্তি নেই। আমার তৃপ্তি এই টুকুই যে আমি এখনো দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব দেশের জনগণের জন্য, রাজশাহীর মানুষের জন্য কাজ করে যাব এই প্রতিশ্রুতি আমি শতভাগ রাখতে পারি। কোন বিশেষ পদ-পদবী আমার কাছে বড় নয়, আমার কাছে বড় হচ্ছে জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণের সাথে থাকা। আমি যদি মনে করি আমি জনগণের সঙ্গে থাকতে পারি, জনগণের জন্য যদি কাজ করতে পারি, রাজশাহীর যদি উন্নয়ন করতে পারি, বাংলাদেশের স্বার্থ যদি রক্ষা করতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বাংলাদেশকে গড়ার যদি একজন ক্ষুদ্র সৈনিক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারি এটি আমার সবথেকে বড় তৃপ্তি।

সবশেষে আমি বলতে চাই তা হলো, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, এখানে উন্নয়ন বৈষম্য রয়েছে। আমি এই অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার জন্যই সব প্রচেষ্টা চালাতে চাই। আশাকরি, এ অঞ্চলের মানুষকে সাথে নিয়ে নতুন সম্ভবনার দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।

এসবি/এমই/ইটি